Jun 4, 2010

গণতন্ত্রের উলঙ্গ ব্যবচ্ছেদ

গণতন্ত্র (democracy) সম্পর্কে আমরা সবাই গৎ বাধা কিছু কথা জানি | যেমন প্রাচীন গ্রীসে সর্বপ্রথম গনতন্ত্র চালু হয়েছিল | সবচেয়ে ভাল শাসন ব্যবস্তা হল গণতন্ত্র |গণতন্ত্রের সংঙ্গা অনেকেই অনেক ভবে দিয়েছেন |এর মধ্যে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সংঙ্গাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সুপরিচিত | তার সংঙ্গা মতে গণতন্ত্র হল, “by the people for the people of the people”

বাংলায় যার অর্থ মোটামোটিভাবে দাঁড়ায়, “মানুষের জন্য মানুষের তৈরী শাষন ব্যবস্তা”|অর্থাৎ সাধারণ জনগনের ভোটে নির্বাচিত সদস্যগণ (১০০, ৩০০ বা ৫০০)আইন বানাবে |সেই সব আইন মানুষ মানতে বাধ্য থাকবে | একটু খারাপ কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় বললে,মানুষের (১০০, ৩০০ বা ৫০০) দাসত্ব বা গোলামী করবে সেই দেশের সকল
মানুষ |এটাই গণতন্ত্র| যা ইসলাম অনুমোদন করে না |


আমদের দেশের অনেক আলেমগণ কেউ বু্ঝে আবার কেউ না বুঝে শুনে তারা তাদের নিজেদের মন মত করে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দেন | আমাদের বুঝতে হবে যে, কুরানের আয়াতের ব্যাখ্যা বা শানে নুযুল যেভাবে আমরা Islamic scholar দের বাদ
দিয়ে স্টিফেন হকিং(stephen hocking) কিংবা শাহরুখ খান(shahruk khan) এর কাছ থেকে নিতে পারি না |

ঠিক তেমনি আমরা কোন অনৈসলামিক মতবাদ যেমন গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা (secularism) ইত্যাদির ব্যাখ্যা আলেমগনের কাছ থেকে না নিয়ে west বা আমেরিকা যেভাবে বুঝে সেভাবেই বুঝতে হবে | কারণ এইসব মতবাদের জন্মদাতা west বা আমেরিকা |এইসব মতবাদ ইসলাম থেকে বের হয়নি |এত কিছুর পরও কিছু ভাড়াটে আলেমগণ বুঝে শুনে গণতন্ত্র হালাল কিংবা ইসলামের ভেতর গণতন্ত্র আছে বলে অভিমত দেন | অবশ্য এটাই স্বাভাবিক যে তাদের নিয়ন্ত্রত গণমাধ্যমে এমন কোন Islamic scholar কে আনবেনা যিনি গণতন্ত্রকে হারাম বলে অভিহিত করবেন |
আর যারা গণতন্ত্র মানবেনা তাদেরকে বলা হবে উগ্র, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী সন্ত্রাসী(terrorist) কিংবা জঙ্গী

আমাদের মধ্যে অনেকে মনে করেন যে , গণতন্ত্র মানেই বুঝি শুধু নির্বাচন | নির্বাচন আর গণতন্ত্র এক জিনিস নয় | নির্বাচন হল ভোটের মাধ্যমে মানুষ বেছে নেবার পদ্ধতি |যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয় | ইসলামের সাথে গণতন্ত্র সাংঘর্ষিক | যা আমার আলোচনাতে উল্লেখ করেছি


গণতন্ত্র একারনে কুফরি ব্যাবস্থা নয় যে, এটা মানুষকে নির্বাচনের ক্ষমতা দিয়েছে |এটা আলোচ্য বিষয় ও নয় | বরং মূল আলোচ্য বিষয় হল এটা কুরান/সুন্নাহকে বাদ দিয়ে হালাল/হারামের বিষয়টি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিয়েছে | আমার এ বক্তব্যের সাথে কেউ দ্বিমত থাকবার কথা নয় যে,আমেরিকা নিশ্চই মুসলিম দেশগুলোতে ইসলাম তথা কুরান/সুন্নাহ প্রতিষ্টা বা establish করতে চায় না | গণতন্ত্রের মধ্যে যদি কুরান/সুন্নাহ থকত তাহলে আমেরিকা নিশ্চই গণতন্ত্র গণতন্ত্র করত না | আমেরিকা বা কাফিররা গণতন্ত্র চাইবে আবার মুসলমানরা ও গণতন্ত্র চাইবে | এটা কি বাস্তবসম্মত ???
মুসলমান আর কাফেরদের চাওয়া পাওয়া কি কখনও অভিন্ন হতে পারে ???
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ গণতন্ত্রের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্টার লক্ষ্যে ইরাক, আফগানিস্টান মিলে ১৫ লক্ষ্য মুসলমান হত্যা করেছেন |


অনেকের মনে হয়ত মনে মনে এ প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি দিতে পারে ইসলাম(Islam) কি নির্বাচনের কি কোন সুযোগ নেই বা মানুষের মতামতের কি কোন মূল্য নেই |কিংবা ইসলাম বুঝি নির্বাচন বিরোধী |আমরা যদি ইতিহাসের দিকে ফিরে যাই তাহলে দেখতে পাব যে,যখন পুরো দুনিয়া একনায়োকোচিত শাষন ও রাজা-বাদশাহদের অত্যাচারের কারণে অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল তখন মুসলিমরা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের খলিফা বেছে নিয়েছিল|আমদেরকে বুঝতে হবে ইসলামের সব ব্যাপারে রয়েছে নিজস্ব পদ্ধতি(unique method) |ইসলামের নিজস্ব পদ্ধতি ছাড়া অন্য সকল পদ্ধতি অবৈধ(illegal) |যেমন বিয়ে করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে |ইসলামের রয়েছে বিয়ে করার নিজস্ব পদ্ধতি | একজন মুসলমান ইসলামের দেয়া পদ্ধতি ছাড়া অন্য যে কোন পদ্ধতিতে বিয়ে করা হারাম বা অনুমোদিত নয় | একই ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রয়েছে ইসলামে নিজস্ব পদ্ধতি একজন মুসলমান ইসলামের দেয়া পদ্ধতি ছাড়া অন্য যে কোন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করা হারাম বা অনুমোদিত নয় |ইসলামের নির্বাচন পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা অন্য কোন article এর মাধ্যমে লিখার আশা রাখছি



আমেরিকা জানে মুসলমানরা গণতন্ত্রকে তার স্বীয় চেহারায় গ্রহণ করবে না | একারনে
আমেরিকা চতুরতার আশ্রয় নিয়ে মুসলমানদের একথা বুঝানোর চেষ্টা করে যে গণতন্ত্রমানে হল শাষক নির্বাচনের পদ্ধতি | নির্বাচনের অধিকার প্রদানের ছন্মাবরণে গণতন্ত্র গেলানো সহজ |দুর্ভাগ্যবশত কিছু আলেমগণ ও ইসলামি দল না বুঝে আমেরিকার এই ফাঁদে(trap) পা দেয়েছেন |


জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত সদস্যরা মিলে যদি ঠিক করে , নির্দিষ্ট পরিমাণ করের বিনিময়ে যে কেউ মদ(wine) খেতে পারবে ,যার ইচ্ছা ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ খেতে পারবে অর্থাৎ সুদ না খাওয়ার ব্যাপারে কোন বাধ্যবাধকতা নেই | আবার ধরেন, এরা মিলে যদি ঠিক করে আজ থেকে কোন মেয়ে হিযাব পরতে পারবে না,তবে সেটা মানতে সবাই বাধ্য থাকবে | যা already বেলজিয়াম , ফ্রান্স , তুরস্কেঘটেছে | এরা মিলে যদি ঠিক করে দেশে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ, তো নিষিদ্ধ(ban) | যেটার প্রস্তুতি চলছে বর্তমানে |উপরের সবগুলো কাজ ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ | এগুলো optional বা যে কোন হারাম কাজের সুযোগ রাখটাও ইসলামে হারাম |

যেটা বলছিলাম সংসদ সদস্যগণ (১০০, ৩০০ বা ৫০০) আইনের মাধ্যমে ঠিক করবেন কোন কাজটা মানুষ করবে , আর কোন কাজটা করবে না | অর্থাৎ হালাল /হারাম নির্ধারণ করবেন আমাদের মতই কিছু মানুষ (নির্বাচিত সংসদ সদস্য) |

নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ বললেও ভুল হবে, কারণ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর উপদেস্টারা মিলে যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন , সেটা সংসদের মাধ্যমে পাস করিয়ে নেন |যেখানে কোন এমপি নিজ দলের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ নেই |গেলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল | যেটা নাকি আমাদের সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে লিখা আছে | যাদের কাছে সংবিধানকে পবিত্র বলে মনে হয়, তারা মনে হয় এর সঠিক reference দিতে পারবেন |আমি ব্যক্তিগতভাবে মানুষের লিখা কোন গ্রন্থকে পবিত্র বলে মেনে নিতে পারি না |

হালাল/হারামের নির্ধারণ করবেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তি |এবং তিনি সেটা পার্লামেন্টের মাধ্যমে আইন পাস করেন যেটা সকলে মানতে বাধ্য |
ইসলামে হালাল/হারামের নির্ধারক কোরান/সুন্নাহ মানে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা |কিন্তু গণতন্ত্রের এর নির্ধারক হয়ে যান একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তি | গণতন্ত্রের সাধারণ জনগনের জন্য আইন তৈরী করেন সংসদ সদস্যগণ |গণতন্ত্রের আইনের উৎস হল পার্লামেন্ট |পার্লামেন্টের মাধ্যমে পাস হয় যে কোন আইন |ইসলামে আইনের ৪টি উৎস – কুরান,সুন্নাহ,ইজমা, কিয়াস | এই ৪টি উৎস ব্যতীত অন্য যে কোন উৎসের আইন ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ |

গণতন্ত্রে ৫ বছর পর অন্তর অন্তর সাধারন মানুষের কাছে ভোট নেওয়া হয় মাত্র |
তাও এইসব ভোট নির্ভর করে কে কত বেশী গালাগালি, গলাবাজি, মিথ্যাচার , আশ্বাস, আর এক গাদা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পারদর্শী বা দক্ষ |তার উপর কালো টাকা, প্রশাষন , পেশী শক্তি, এজেন্ট ,কারচুপিসহ হাজারো রকমের অবৈধ পন্থা তো রয়েছেই |


গণতন্ত্র সম্পর্কে মিডিয়ার তৈরী এক ঝাঁক ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরা এর গুণগান গাইতে গাইতে শহীদ |যেমন গণতন্ত্র হল সুশাষন , জনগনের শাষন,গণতন্ত্র জবাবদিহিমুলক শাষন |গণতন্ত্র হল মানুষের মৌলিক অধিকার , গণতন্ত্র উন্নয়নের পূর্ব শর্ত ইত্যাদি ইত্যাদি |ডিকশনারীর যত সব সব ভাল শব্দ গণতন্ত্রের আগে-পিছে জুড়িয়ে দেয় |

গণতন্ত্র হল জনগনের শাষন |অর্থাৎ তাদের ভাষায় জনগনই সকল সিদ্ধান্তের মালিক |নিম্নোক্ত সিদ্ধালন্তগুলো কি সাধরণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন,নাকি অন্য কিছু

১ বাংলাদেশ কুরান/সুন্নাহ তথা ইসলাম দ্বারা পরিচালিত হবে, না মানুষের লিখা সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হবে সেটা কি জনগনের ভোটে নির্ধারিত হয় ?


২ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি মানে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের(ban) সিদ্ধান্ত কি সাধরন মানুষের ভোটে নির্ধারিত হবে ???

৩ বাংলাদেশের সংবিধানে কি থাকবে আর কি থাকবে না সেটা সাধরণ মানুষ ঠিক করেছিল ???

৫ বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্হা থাকবে কি থাকবে না সেটা কি সাধারণ মানুষের
ইচ্ছা/অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে ???

৪ বিভিন্ন স্পর্ষকাতর সিদ্ধান্ত যেমন –ট্রানজিট, চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ব্যবহার সহ বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো সাধরন মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলনের কি কোন সুযোগ থাকে ???

৫ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বললে, ইরাক ,আফগানিস্তান যুদ্ধ কি আমেরিকার সাধারন মানুষেরভোটে নির্ধারিত হয়েছিল ???

৬ বেলজিয়ামে হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কি সাধরন মানুষের ভোটে নির্ধারিত হয়েছিল ???

৭ সুইজারল্যান্ডে মসজিদে মিনার নির্মানের সিদ্ধান্ত কি সাধরন মানুষের ভোটে নির্ধারিত হয়েছিল ???

এটাই তো কথা। আমার সংবিধানে কি থাকবে সেটা নির্ধারণ করবে আরেক দেশের লোক। তাহলে আর স্বাধীন হয়া লাভ হইল কী ?

এসব প্রশ্নের কোন উত্তরই হ্যাবোধক আসবে না |সাধারন জনগণ তো অনেক অনেক দূরের কথা কোন এমপিদের মতামতের কোন মূল্য নেই |এমপিরা শুধুমাত্র তাদের এলাকার অভাব-অভিযোগ গুলো সংসদে তুলে ধরার সুযোগ পান মাত্র |


যারা গণতন্ত্র দিয়ে দেশ পরিচালনা করেন তাদের সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য কি ?এবং আরও স্পষ্ট ভাষায় বললে,হাসিনা-খালেদা, এরশাদ-নিজামী এমনকি বায়তুল মোকারমের খতিব ও যদি গণতন্ত্র দিয়ে দেশ পরিচালনা করেন তবে তিনি জালেম-ফাসেক এমনকি কাফের বলে গন্য হবেন |


“যারা আল্লাহর বিধান(কুরান/সুন্নাহ) অনুযায়ী শাষন পরিচালনা করে না তারা জালেম,কাফের অথবা ফাসেক ”[সূরা আল মায়েদা]

“তারা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার হতে পারবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না ,তারা তাদের যাবতীয় বিষয়ে রাসূল(সঃ)কে(কুরান/সুন্নাহ) ফয়সালা হিসেবা মেনে না নেয়”[সূরা নিসা -৬৫]

গণতন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলাম কি কখনও জালেম-ফাসেক অথবা কাফের (হাসিনা-খালেদা, এরশাদ-নিজামী) বেছে নেবার অনুমতি দিতে পারে ???

যারা বুঝে হোক আর না বুঝে ভুল বা ভ্রান্ত পথে রয়েছন আল্লাহতায়ালা তাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুন |